ঐতিহাসিক ধারা
বাংলাদেশ লেবার পার্টির ইতিহাস শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায় এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দলটির সূচনা, স্থগিতকরণ, পুনর্জাগরণ এবং পরবর্তী জোটভিত্তিক রাজনীতি দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়
-
১৭ আগস্ট ১৯৭৪
প্রতিষ্ঠা
মাওলানা আবদুল মতীনের নেতৃত্বে শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের অধিকার এবং সুশাসনের দাবিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টি গঠিত হয়।
-
২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫
বাকশাল ও কার্যক্রম স্থগিত
একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থায় সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হলে লেবার পার্টির সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
-
২২ অক্টোবর ১৯৭৭
পুনঃপ্রতিষ্ঠা
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করলে মাওলানা আবদুল মতীন ও মাওলানা গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।
-
৭ মে ১৯৭৮
জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট
জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল হিসেবে লেবার পার্টি যুক্ত হয়।
-
২০০৭–
সমমনা জাতীয়তাবাদী ধারা
ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে দলটি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সমমনা শক্তি হিসেবে সক্রিয় থাকে এবং জোটভিত্তিক আন্দোলনে অংশ নেয়।
-
২০১২
১৮/২০ দলীয় জোট
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট (পরবর্তীতে ২০ দলীয় জোট) গঠিত হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি শরিক দল হিসেবে ভূমিকা রাখে।
-
২০১৮
একাদশ জাতীয় নির্বাচন
চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
-
২০২২–বর্তমান
যুগপৎ আন্দোলন ও নিবন্ধন
২০ দলীয় জোট বিলুপ্তির পর রাজপথের যুগপৎ আন্দোলন এবং নিবন্ধন প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে দলটি নিজস্ব প্রতীক ‘আনারস’ নিয়ে সাংগঠনিক ও নির্বাচনী রাজনীতিতে এগিয়ে চলেছে।
-
জুলাই–আগস্ট ২০২৪
গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে লেবার পার্টি ও ছাত্র মিশনের নেতাকর্মীরা সক্রিয় অংশ নেন; শহীদ মিনার ও শাহবাগসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলের উপস্থিতি ছিল।
ঐতিহ্যের মূল সুর
দীর্ঘ পথচলায় দলটি কখনো কখনো অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও মূলধারার জাতীয়তাবাদী ও মেহনতি মানুষের রাজনৈতিক চেতনায় টিকে থেকেছে। আজও দলের ঐতিহ্য — রাজপথের সংগ্রাম, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা।