ঢাকা: জুলাই ২০২৪-এর বর্বরোচিত গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির দাবিতে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে জোটের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের নিকট ৭ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, "জুলাই গণহত্যার বিচার বিলম্বিত হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। নতুন বাংলাদেশের মূল ভিত্তিই হবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।" উক্ত কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এআরএম জাফরুল্লাহ চৌধুরী, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ডক্টর নেয়ামুল বশির এবং বিডিপি মহাসচিব নিজামুল হক সহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধারা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিচারের দাবি জানান। স্মারকলিপিতে পেশকৃত ৭ দফা দাবি নিচে তুলে ধরা হলো: ১. ক্রাইম সিনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত: জুলাই ২০২৪-এর গণহত্যার সকল প্রধান ক্রাইম সিনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। ২. অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা: গণহত্যায় অভিযুক্ত যেসব পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এখনো গ্রেফতার হয়নি বা সরকারি দায়িত্বে বহাল রয়েছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। ৩. সারা দেশের অপরাধের বিচার: ঢাকা, রংপুর ও কুষ্টিয়ার বাইরে দেশের সব জেলায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ৪. পলাতক আসামিদের গ্রেফতার: জুলাই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৫. সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: জুলাই গণহত্যাকে সমর্থন, উসকানি, অপপ্রচার কিংবা বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহতকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ৬. গুম ও হত্যার বিচার: গুম, গুম-পরবর্তী হত্যা, মরদেহ গোপন এবং টিএফআই ও জিআইসি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ৭. গুমের মামলার বিচার ও নিরাপত্তা: গুম-সংক্রান্ত সকল মামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শহীদ ও আহতদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে অর্জিত অধিকার সুরক্ষিত থাকবে না।