বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে রক্তাক্ত পথরেখা নির্মাণ করেছেন, লেবার পার্টি সেই পথেই এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। জুলাইয়ের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষার জন্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "জুলাইকে ভুলে যাওয়া মানে শহীদদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে জাতি তার আত্মত্যাগের ইতিহাস ভুলে যায়, ইতিহাসও তাকে ক্ষমা করে না। তাই জুলাইয়ের চেতনা, আত্মদান ও সংগ্রামকে জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে ধারণ করতে হবে। শহীদদের রক্তের ঋণ কেবল শোক প্রকাশের মাধ্যমে শোধ হবে না, তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সেই ঋণশোধ করতে হবে।"
আজ (শুক্রবার) দুপুরে চাষাড়া চুনকা অডিটোরিয়ামে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর লেবার পার্টি আয়োজিত "জান দেবো, জুলাই দেবো না" শীর্ষক প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর লেবার পার্টির সভাপতি আবদুর রহমান খোকন-এর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন খান-এর পরিচালনায় সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঈনুদ্দিন আহমাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, এনসিপির মহানগর আহবায়ক মোঃ শওকত আলী, লেবার পার্টির প্রচার সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন খান, মহিলা সম্পাদিকা নাসিমা নাজনীন সরকার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ লেবার পার্টির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মাসুদ আলম পাটোয়ারী, গোলাম আজম, সদস্য সচিব মোঃ জাহিদুল ইসলাম, সদস্য মোঃ এনামুল হক আকন্দ, ছাত্রমিশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম মামুন, নাঃগঞ্জ মহানগর লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসানুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসমিন শেখ, সদর থানা লেবার পার্টির সভাপতি জাকারিয়া হক, ফতুল্লা মডেল থানা সভাপতি মোহাম্মদ মোহসিন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি শাকিল আহমেদ ও বন্দর থানা সভাপতি মোঃ মিশন চৌধুরী প্রমুখ।
প্রধান আলোচক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের মানুষ, বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহস ও গণআকাঙ্ক্ষার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন তখনই হবে, যখন রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে। জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।"
সভাপতির বক্তব্যে আবদুর রহমান খোকন বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। 'জান দেবো, জুলাই দেবো না' শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি আমাদের অঙ্গীকার। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং একটি ইনসাফভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।"
বিশেষ অতিথি এডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারই জুলাইয়ের আত্মত্যাগের প্রতি প্রকৃত সম্মান। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।